রাজগৃহ গাইড ও নোট (পাঠ ৩)

সপ্তম শ্রেণি — মাধ্যমিক - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান | NCTB BOOK
345

রাজগৃহ ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলায় অবস্থিত। এটি ছিল মগধ রাজ্যের রাজধানী। প্রাচীনকালে এটি বসুমতী, কুশাগ্রপুর, গিরিবজ্র ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি রাজগীর নামে খ্যাত। চারদিকে পাহাড়বেষ্টিত স্থানটি দেখতে অতি মনোরম।

গৌতম বুদ্ধ রাজগৃহে ধর্মপ্রচার করতে এসেছিলেন। তখন মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার। বুদ্ধের ধর্মদেশনা শ্রবণ করে রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন। রাজা বিম্বিসার এবং তাঁর পুত্র অজাতশত্রুর সময়কালে এ অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম যথেষ্ট প্রভাব ও প্রতিপত্তি লাভ করেছিল।

রাজা বিম্বিসার বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের বসবাসের জন্য 'বেলুবনারাম' বা সংক্ষেপে বেণুবন বিহার দান করেন। এটি বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে প্রথম বিহার দান। বুদ্ধ এ বিহারে অবস্থানকালে সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন সংঘে যোগদান করেছিলেন। রাজা বিম্বিসারের অনুরোধে বুদ্ধ এখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রথম উপোসথ পালনের অনুমতি প্রদান করেন। ভগবান বুদ্ধ বেণুবন বিহারে সাত বর্ষাবাস অতিবাহিত করেন। রাজগৃহে ছিল জীবকের বিশাল আম বাগান। জীবক ছিলেন চিকিৎসক এবং বুদ্ধের পরম ভক্ত। জীবক তাঁর আম বাগানটি বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের দান করেন। এই আমবাগানে যে বিহারটি গড়ে ওঠে তার নাম ছিল 'জীবকারাম বিহার"। বিহারে অবস্থানকালে বুদ্ধ রাজা অজাতশত্রুকে উদ্দেশ্য করে 'শ্রামণ্যফল সূত্র' দেশনা করেন।

এখানে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি গুহা আছে। তার মধ্যে 'সপ্তপর্ণী' গুহা অন্যতম। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ প্রাপ্তির তিন মাস পর মহাকশ্যপ স্থবির রাজা অজাতত্ত্বর পৃষ্ঠপোষকতায় সপ্তপর্ণী গুহায় প্রথম বৌদ্ধ সঙ্গীতির অধিবেশন আহ্বান করেন। এ সঙ্গীতিতে উপালি স্থবির 'বিনয়' এবং আনন্দ স্থবির 'ধর্ম' ব্যাখ্যা করেন।

সপ্তপর্ণী গুহা

প্রথম সঙ্গীতি অনুষ্ঠানের পর মৌর্য সম্রাট অশোক এখানে একটি 'স্তম্ভ' প্রতিষ্ঠা করেন। স্তম্ভের শীর্ষে ছিল হস্তীর প্রস্তর ভাস্কর্য। অশোক এখানে একটি স্তূপও নির্মাণ করেন বলে জানা যায়।
রাজগৃহ ভগবান বুদ্ধের জীবনের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থান। তাই রাজগৃহ বৌদ্ধদের কাছে অতি পবিত্র তীর্থভূমি।

অনুশীলনমূলক কাজ
রাজগৃহ কোথায় অবস্থিত এবং কী কী নামে পরিচিত ছিল?
প্রথম সঙ্গীতি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...